Pages

Ads 468x60px

Monday, January 16, 2012

নিমশাখায় সবুজ বাঁশপাতি

নিমের শাখায় বসে আছে সবুজ বাঁশপাতি। মুন্সিগঞ্জ জেলার রিকাবীবাজার থেকে তোলা নিমের শাখায় বসে আছে সবুজ বাঁশপাতি। মুন্সিগঞ্জ জেলার রিকাবীবাজার থেকে তোলা
ছবি: লেখক

পাখিটার নাম সবুজ বাঁশপাতি। অঞ্চলভেদে লোকে সুইচোরা, নরুন চেরা—এসব নামেও ডাকে। পাখিটার ইংরেজি নাম Green Bee-eater। বৈজ্ঞানিক নাম Merops Orientalis। পাখি গবেষকদের মতে, এরা মেরোপিদি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এরা লম্বায় ২০ সেন্টিমিটার। ছিপছিপে গড়ন। গায়ের বর্ণ উজ্জ্বল সবুজ। চঞ্চু কালো, একটু বাঁকানো। চোখের দুই পাশে কাজলরেখা ঘাড়ের সঙ্গে মিশেছে। চিবুক ও গলায় নীলের ছটা। গলার নিচে আছে নেকলেসের মতো একটা কালো টান। মাথা ও পিঠের ওপর অংশের পালক সোনালি। ডানার নিচে উজ্জ্বল তামাটে, যা শুধু ওড়াউড়ির সময়ে নজরে পড়ে। পায়ের রং কালচে। লেজের মাঝবরাবর দুটি পালক দুই ইঞ্চি পরিমাণ বর্ধিত থাকে। পাখিটার মূল আকর্ষণ সেটাই। কিন্তু দুর্ভাগ্য, পাখির লেজের অংশটুকু ডালের নিচ দিয়ে নেমে থাকায় তা ক্যামেরায় বন্দী করতে পারিনি। আমাদের দেশে সাধারণত চার প্রকারের বাঁশপাতি দেখা যায়—সবুজ বাঁশপাতি, পিঙ্গল মাথা বাঁশপাতি, নীললেজা বাঁশপাতি ও পাহাড়ি বড় বাঁশপাতি।
বাঁশপাতি মূলত মাছিভুক পাখি (অন্য পতঙ্গও খায়)। পতঙ্গ পাকড়ানোর কৌশল বেশ চমকপ্রদ। উড়ে গিয়ে খপ করে ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে গিলে ফেলে।
বাঁশপাতি শীতকালে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। বিদ্যুতের তারে অথবা শুকনো কঞ্চিতে ঘুরপাক খেতে খেতে এসে বসেই আবার উড়তে থাকে। বড় চঞ্চল। দলবদ্ধভাবে বাস করে। এদের প্রজনন সময় শীতের শেষে। বাঁশপাতি গাছে বাসা বানাতে পারে না। সাধারণত নদীর পাড়ে খাড়া জায়গায় সুড়ঙ্গের মতো গর্ত করে ডিম পাড়ে। ডিমের সংখ্যা ৫-৭টি। রং ধবধবে সাদা। স্ত্রী-পুরুষ দুয়ে মিলে ২১-২৭ দিন ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায়। prothom-alo
Reade more >>

Wednesday, December 14, 2011

 দুর্লভ লালমাথা টিয়া

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে জিগাগাছে স্ত্রী লালমাথা টিয়া
ছবি: লেখক
‘লালমাথা টিয়া’ (Plum-headed Parakeet)। বর্তমানে ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কোনো কোনো এলাকায় গ্রামীণ পরিবেশে কদাচ দেখা যায়। এদের বৈজ্ঞানিক নাম Psittacula cyanocephala.
লালমাথা টিয়া আমাদের সাধারণ ‘গোলাপিকণ্ঠী’ টিয়ার চেয়ে আকারে ছোট। লম্বায় ৩৩ সেন্টিমিটার, যার মধ্যে লেজই ২২ সেন্টিমিটার। ওজন ৬৫ গ্রাম। দেহের রং হলদে-সবুজ বা হালকা সবুজ। এদের লেজ চিকন এবং ঠোঁট হুকের মতো বাঁকানো। চিবুক কালচে। লেজ নীলচে-সবুজ; লেজের আগা সাদা। পুরুষ টিয়ার মাথার রং প্লাম ফলের মতো বেগুনি লাল। এদের ঘাড় ও গলাজুড়ে থাকে কালো রঙের একটি কলার। কাঁধে আছে মেরুন-লাল দাগ। স্ত্রী টিয়ার মাথার রং হালকা ও ধূসর, যা হলুদ রঙের কলার দিয়ে ঘেরা থাকে। এদের কাঁধের ওপরের দাগটিও হলুদ। স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেষে পা ও পায়ের নালা সবুজে-ধূসর। বাচ্চাদের পুরো দেহ সবুজে মোড়ানো। মাথা সবুজ, গাল ও কপাল হলদে। মাথার রং ও লেজের আগার সাদা দাগের মাধ্যমে এদের ফুলমাথা টিয়া (Eastern Blossom-headed Parakeet) থেকে পৃথক করে চেনা যায়।
লালমাথা টিয়া বনের প্রান্ত যেখানে কৃষিজমির সঙ্গে মিলেছে সেখানে, ফলের বাগানে ও খোলা বনে থাকতে পছন্দ করে। এরা সচরাচর ছোট দলে থাকে। বশেমুরকৃবিতে আমি একসঙ্গে পাঁচটি লালমাথা টিয়া দেখেছি। এরা পাকা ফল, ফুল ও ফসল দেখলে খেতে নেমে আসে। এরা শস্য, ফল, কুঁড়ি, ফুলের পাপড়ি ও নির্যাস খেতে পছন্দ করে। বশেমুরকৃবিতে এদেরকে জিগাগাছের ছোট ছোট সবুজ ফল ও কদম ফুল খেতে দেখেছি। এরা টুই-টুই-টুই-টুই-টুই-টুই স্বরে ডাকে। উড়ন্ত অবস্থায় বেশি ডাকে।
জানুয়ারি থেকে এপ্রিল এদের প্রজননকাল। এরা যেকোনো গাছের জুতসই কোনো খোঁড়লে বাসা বাঁধে। কাঠঠোকরা, বসন্তবৌরি বা অন্যান্য খোঁড়লবাসী পাখির বাসা দখল করে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে নেয়। অনেক সময় কাঠের ছিলকা দিয়ে বাসার লাইনিং তৈরি করে। স্ত্রী লালমাথা টিয়া চার থেকে ছয়টি সাদা ডিম পাড়ে। prothom-alo
Reade more >>

Friday, December 9, 2011

বাইক্কা বিলে বিরল পাখি

বাইক্কা বিল থেকে পাওয়া ‘বড়ঠোঁট চুটকি’ বাইক্কা বিল থেকে পাওয়া ‘বড়ঠোঁট চুটকি’
ছবি: প্রথম আলো
বাইক্কা বিলে বিরল প্রজাতির এক পরিযায়ী পাখির দেখা পাওয়া গেছে। পাখি পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, পাখিটির নাম ‘বড়ঠোঁট চুটকি’। এটি বিশ্বব্যাপী অতিসংকটাপন্ন প্রজাতির একটি পাখি। গত ১০ বছরে থাইল্যান্ডে মাত্র দুটি পাখি দেখা গেছে। তৃতীয়বার দেখা গেল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার হাইল হাওরের ‘বাইক্কা বিল অভয়াশ্রমে’ গবেষণার জন্য বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের গবেষক দলের পাতা ফাঁদে ৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এ পাখি ধরা পড়ে।
বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সভাপতি ইনাম আল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই পাখি সম্পর্কে খুব একটা তথ্য কারও জানা নেই। গত ১০ বছরে থাইল্যান্ডে দুবার এ প্রজাতির দুটি পাখি দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে এর আগে কোথাও এ পাখি দেখা যায়নি। এর ইংরেজি নাম Largebilled Warbler থেকে বাংলায় ‘বড়ঠোঁট চুটকি’ নাম রাখা হয়েছে। পাখিটির বৈজ্ঞানিক নাম Acrocephalus orinus। মেটে রঙের এ পাখির ওজন ১০ গ্রাম। তবে পাখিটি পরিযায়ী—এটা ধারণা পাওয়া গেছে।’
ইনাম আল হক জানান, বাংলাদেশের নামাঙ্কিত রিং পাখিটির পায়ে পরিয়ে ধরা পড়ার আধঘণ্টার মধ্যেই বিলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গবেষক দলের অপর সদস্য থাইল্যান্ডের মাহিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ফিলিপ রাউন্ড প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ পাখির দেখা পাওয়ার পর দলের সবাই আনন্দে আত্মহারা। বাইক্কা বিলে আসা আমাদের সার্থক হয়েছে। আর এটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে বাইক্কা বিলটি পাখিবৈচিত্র্যের দিক থেকে অনন্য। পৃথিবীতে অনেক অজানা বিষয় রয়েছে। এই পাখি সম্পর্কে তেমন বিস্তারিত তথ্য আমাদের কাছে নেই। পাখিটির পায়ে রিং পরানোর সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে। আর এর পায়ে যে রিং পরানো হয়েছে, এতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। এর মাধ্যমে এ প্রজাতির পাখি সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় বাংলাদেশের নামটি যুক্ত হয়েছে।’
এ বছর শীতের শুরু থেকেই হাইল হাওরের বিভিন্ন বিলে প্রচুর দেশি ও বিদেশি পরিযায়ী পাখি আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে বাইক্কা বিলকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করায় পাখির সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার অনেক বেড়েছে।
বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রথম আলো
Reade more >>

Saturday, November 26, 2011

বিদ্যুতের মৃত্যুফাঁদে পরিযায়ী পাখি

দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া নীল সারস দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়া নীল সারস
এএফপি
শীত থেকে বাঁচতে পরিযায়ী পাখিরা ছোটে দূরদেশে, যেখানে স্বচ্ছন্দে বিচরণ করা যাবে। এ জন্য তাদের পাড়ি দিতে হয় হাজার হাজার মাইল। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে ক্লান্ত পাখিগুলো যাও-বা ঠিকানা খুঁজে পায়, অনেক পাখিই প্রাণ হারায় বিদ্যুতের তারে ঝুলে থাকা মৃত্যুফাঁদে পড়ে।
নরওয়ের বেরগেনে ২০ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত পরিযায়ী পাখি নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘কনভেনশন অন মাইগ্রেটরি স্পেসিজ’ শীর্ষক সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সাত কোটি কিলোমিটার দীর্ঘ বিদ্যুতের তার টানা রয়েছে। শুধু আফ্রিকা ও ইউরেশিয়াতেই প্রতিবছর কয়েক লাখ পাখি এই বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়।
সম্মেলনে ডাচ্ পাখি গবেষক হেইন প্রিনসেন বলেন, শিকার ছাড়াও বিদ্যুতের তারের স্পর্শে অনেক পাখি মারা যায়। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও মানুষের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে পরিযায়ী পাখির অনেক আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে গেছে। এ কারণে এই পাখির সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে।
গবেষকদের মতে, অনেক প্রজাতির পাখি আছে, যেগুলোর বংশবৃদ্ধির হার কমে গেছে। তার ওপর এভাবে পাখি মারা যেতে থাকলে অনেক পাখির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রজাতির সারসের ক্ষেত্রে দেখা যায়, একটি প্রাপ্তবয়স্ক সারস মারা গেলে খাবারের অভাবে এটির ছানাও মারা যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রটেকশন অব বার্ডসের সাবেক সদস্য জন ও’ সুলিভান বলেন, খুব শিগগির ভারত ও আফ্রিকায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এই দুটি অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হচ্ছে। অথচ এখানে পাখির বাসও তুলনামূলক অনেক বেশি। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্যুতের তারের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রচুর নীল সারস মারা যাচ্ছে। এভাবে বছরে প্রায় ১২ শতাংশ সারস হারিয়ে যাচ্ছে। এএফপি। prothom-alo
Reade more >>

Sunday, October 23, 2011

 সাদা-কালোয় পাকড়া মাছরাঙা

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর সীমান্তবর্তী নাগরা-নাগরি নদীতে একজোড়া পাকড়া মাছরাঙা পঞ্চগড়ের আটোয়ারীর সীমান্তবর্তী নাগরা-নাগরি নদীতে একজোড়া পাকড়া মাছরাঙা
ছবি: লেখক
এরা ‘পাকড়া মাছরাঙা’ (Pied Kingfisher)। কড়িকাটা, ফটকা, চিতে বা ডোরাকাটা মাছরাঙা নামেও পরিচিত। সাদা-কালো হলেও খুব সুন্দর পাখি। এমনকি অনেকের মতে, এরাই এ দেশের মাছরাঙাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। বৈজ্ঞানিক নাম Ceryle rudis, অর্থাৎ তলোয়ারঠুঁটো পাখি।
এরা লম্বায় ৩১ সেন্টিমিটার। দেহের সাদা জমিনের ওপর কালো দাগ ও ফোঁটা। উড়ন্ত অবস্থায় দেহের রং আরও খুলে যায়। ডানায় সাদা-কালোর চমৎকার কারুকাজ। মাথার খোঁপা কালো। ঘাড় থেকে একটি চওড়া কালো টান চোখের নিচ হয়ে ঠোঁটের আগা পর্যন্ত চলে গেছে। গলার নিচে সাদা, তাতে দু-চারটি কালো ছোট ছোপ। লেজের আগা সাদা, নিচের কিছুটা অংশ কালচে। পুরুষ ও স্ত্রী দেখতে একরকম হলেও পুরুষের বুকে দুটো কালো রেখা রয়েছে; স্ত্রীর ক্ষেত্রে এই রেখা অসম্পূর্ণ। ঠোঁট মোটা ও শক্ত। ঠোঁট, পা ও নখ মেটে-কালো।
মূলত মাছখেকো হলেও ব্যাঙাচি ও জলজ পোকামাকড়ও খায়। দেশের সবখানেই কমবেশি দেখা যায়। সচরাচর জোড়ায় থাকে। নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর, এমনকি ছোটখাটো পানির উৎস প্রভৃতি স্থানে যেখানে খাবার আছে, সেখানেই ঘোরাফেরা করে। এরা চিররিক-চিররিক-চিররিক শব্দে ডাকে। উড়ন্ত অবস্থায় বেশি ডাকে।
ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল প্রধান প্রজননকাল হলেও সারা বছরই বাচ্চা তোলে। বাসা বানায় ডোবা-নালা-খাল-নদীর খাড়া পাড়ের দেয়ালে। পা ও ঠোঁট দিয়ে গর্ত খুঁড়ে। বাসার গভীরতা ৯০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার ও চওড়া সাত থেকে আট সেন্টিমিটার হতে পারে। বাসার স্থান নির্বাচনে বেশ বুদ্ধির পরিচয় দেয়। খাড়া দেয়ালের এমন স্থানে গর্ত করে, যেখানে সাপ-গুঁইসাপ বেয়ে উঠতে পারে না। গর্তের মুখ ছোট ও গভীরতা বেশি থাকায় মাংসাশী প্রাণী ও শিকারি পাখিরা ডিম-বাচ্চার ক্ষতি করতে পারে না। স্ত্রী গর্তের শেষ মাথায় পাঁচ থেকে সাতটি সাদা ডিম পাড়ে। ডিম ফোটে ১৯ থেকে ২২ দিনে। বাচ্চারা উড়তে শেখে ১৩ থেকে ১৬ দিনে।
এরা অত্যন্ত নিরীহ। শক্তিশালী ঠোঁট থাকতেও কারও সঙ্গে মারামারি করে না। আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সুন্দর এই পাখিগুলো রক্ষা করা প্রয়োজন।
Reade more >>

Wednesday, October 19, 2011

 খুদে পাখি ভোমরা ছোটন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গুল্ম শাখায় বসে আছে ভোমরা ছোটন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গুল্ম শাখায় বসে আছে ভোমরা ছোটন
ছবি: লেখক
ভোমরা ছোটন খাটো লেজের অতি খুদে তৃণচারী পাখি। দেহের দৈর্ঘ্য ১০ সেমি, ওজন ৭ গ্রাম। প্রধানত একাকী ও জোড়ায় চলে। তবে প্রজননের সময় কয়েক জোড়া পাখি একই সঙ্গে দেখা গেছে। এ বৈশিষ্ট্য মুন্সিগঞ্জের কাছে পদ্মার লৌহজং চরে পাখি দেখতে গিয়ে কয়েকবারই চোখে পড়েছে। খুদে এ পাখিটি খুব সামান্য দূরত্বে উড়ে বেড়ায় ঘাসবন থেকে নলবনে এবং কিছুক্ষণ পরপরই ‘যিট...যিট...যিট’ সুরে ডাকে। এরা বেড়ে ওঠে নদীতীরের নলবন, ঘাসবন ও ধানখেতে। খুব সকালেই এ পাখি তার দৈনন্দিন কাজ শুরু করে। শণ ও ঘাসের ডগায় ডগায় উড়ে বেড়ায় এবং শুকনো ধানখেতে নামে খাবারের সন্ধানে।
দেশের সব বিভাগের আর্দ্র আবাদি জমিতে পাখিটি দেখা যায়। ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চল, মালদ্বীপ ছাড়া উপগ্রীষ্মমণ্ডলীয় এশিয়াতে পাখিটির বিস্তৃতি রয়েছে। এর ইংরেজি নাম Zitting Cisticola। বৈজ্ঞানিক নাম Cisticola juncidis।
প্রাপ্তবয়স্ক ছোটন পাখির পিঠের পালক কালচে বাদামি দাগসমেত হালকা পীত বর্ণের। মাথার চাঁদি ধূসর-বাদামি। লেজ ফিকে। ছেলে ও মেয়ে উভয় পাখির চোখ পিঙ্গল বাদামি, জলপাই বাদামি বা খড় বর্ণের। পা ও পায়ের পাতা মেটে। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথায় মোটা লম্বা দাগ থাকে এবং দেহতল হলদে।
ফড়িং, পিঁপড়া, মাকড়সা, শুঁয়োপোকা, গুবরেপোকা ও ফলের বীজ আছে এদের প্রধান খাবার তালিকায়। শুকনো ঘাস ও পাতা-নল দিয়ে মার্চ-জুলাই মাসে নল বা শণের ডগায় ডিম্বাকৃতির বা মোচাকার বাসা বানায়। চার-পাঁচটি ডিম দেয়। ডিম ফিকে নীল। ডিম থেকে ১০ দিনেই ছানা ফোটে। মা-বাবা উভয়ে মিলেই সংসারের বাকি কাজ চালিয়ে যায়। দেশে পাখিটির সংখ্যা ভালোই আছে।

 প্রথম আলো
Reade more >>

Friday, October 14, 2011

লেজ যেন তার পাখা

ছানা বুকে নিয়ে বাসায় বসে আছে লেজ নাচুনে পাখি ছানা বুকে নিয়ে বাসায় বসে আছে লেজ নাচুনে পাখি
ছবি: মো. হানিফ
এমন আমুদে খেলুড়ে তথা ফুর্তিবাজ ও নাচুনে সুন্দরী পাখিটি যে প্রয়োজনে ধারণ করতে পারে রুদ্রমূর্তি, দুর্দান্ত সাহসে তেড়ে যেতে পারে শত্রুর দিকে, করতে পারে কুশলী আক্রমণ, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতে চায় না। এই বৈশিষ্ট্য যেন সম্পূর্ণ তার চরিত্রের বিপরীত। এই পাখিরা প্রজনন মৌসুমে নান্দনিক সৌন্দর্যমণ্ডিত নৃত্যগীতে মাতোয়ারা হয় গাছের মোটা ডালের মঞ্চে, মানকচুর পাতার মঞ্চে, ঘরের চালার মঞ্চে প্রেমিক-প্রেমিকা মুখোমুখি হয়ে পাখার পালক ফুলিয়ে লেজের সুবিন্যস্ত ১২ খানা পালককে জাপানি পাখা বানিয়ে ওপরে তুলে এনে ধ্রুপদি নৃত্যে মেতে ওঠে—ঘুরে ঘুরে নাচে ও গান গায়। তাদের মনোমুগ্ধকর সেই নৃত্যগীত দেখার পর যদি দেখা যায় যে ওই দুটি পাখিই চেঁচিয়ে বাগান মাত করছে, দুটিতে পরিকল্পিতভাবে দুই পাশ থেকে তীরের ফলার মতো নেমে এসে একটি গুইসাপের পিঠে বা বনবিড়ালের পিঠে ঠোকর দিচ্ছে, তাহলে বিস্মিত হতে হয় বৈকি।
হ্যাঁ, জাপানি পাখার মতো লেজের পালক মেলতে পারা, গাছের ডালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রেমিক-প্রেমিকা মিলে নেচে-গেয়ে মেতে থাকা এমন পাখি বাংলাদেশে আর আছে কি! প্রজনন মৌসুমে এই পাখিরা ঠিক যেন লাইলী-মজনু হয়ে যায়।
পাখিটির নাম নাচুনে, প্রয়োজনে লেজের পালকগুলোকে এরা জাপানি পাখা বানিয়ে ফেলতে পারে। নাম তাই লেজনাচুনে। বৈজ্ঞানিক নাম Rhipidura albicollis. মাপ ১৯ সেন্টিমিটার। এই পাখিটি আমাদের গ্রামের বাড়ির বাগানে প্রতি মৌসুমে ২-১০টি বাসা করে। বাসা করত ছোট লেজনাচুনে বা নীলরাজা (Black-naped monarch) পাখিরা। স্বভাবে বাসা বাঁধার কৌশলে এই দুই জাতের পাখির মধ্যে খুবই মিল—মিল আছে খাদ্য তালিকায়ও। এ বছর (২০১১ সালের এপ্রিলে) আমাদের গ্রাম বাগেরহাটের সাতশৈয়ায় এই দুই জাতের বাসা দেখলাম ১৯টি।
লেজনাচুনেদের পছন্দ ছায়া ছায়া মায়া মায়া বনবাগান। এরা সারা দেশেই আছে। খাদ্য মূলত পোকা-মাকড়। বাসা করে খুব সুন্দর। গাছের সরু ডালে বা বাঁশের নুয়ে পড়া কঞ্চিতে। বাসার নিচে লেজের মতো ঝুলে থাকে বাসার উপকরণ। ঝড়ে কঞ্চি-বাসা যতই দোল খাক, বাসার ডিম-ছানা ছিটকে পড়ে না। কেন পড়ে না? কুশলী ও বুদ্ধিমান পাখি এরা। পুরো শরীর কালচে, তাতে হালকা ধূসরের আভা। গলা ও চোখের ভ্রূ সাদা। চোখের পাশটা কালো, লেজের ডগা সাদা। চোখ-ঠোঁট কালো। ডিম পাড়ে তিনটি। ডিম যেন সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়া। বাসার চারপাশেও এমন প্রলেপ দেখা যায় কখনো কখনো। আশপাশের কোনো পাখি বিপদে পড়লে এরা সাহায্যে এগিয়ে আসে।
Reade more >>